এমডিএইচ রাজু, চট্টগ্রাম ;
———————————–
চট্টগ্রামের বার আউলিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলি ও সাধক, মসিহে মিল্লাত হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) এর পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ ২০২৬ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম নগরীতে “আধ্যাত্মিকতা ও হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.)-এর জীবন” শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ১৭ জুন ২০২৬ বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সুলতান আহমদ মিলনায়তনে শাহ মোহছেন আউলিয়া দরবার শরীফের খলিফা মঞ্জিলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংবাদিক ও সুধীজনদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
খাদেম এস. এম. হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে “হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) : এক অলৌকিক আধ্যাত্মিক সাধকের জীবন” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুসলমান ইতিহাস সমিতির সভাপতি ও ইতিহাসের পাঠশালা (দি একাডেমি অব হিস্ট্রি) এর পরিচালক গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ-দীন।
গবেষণা প্রবন্ধে তিনি হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) এর জীবন, কর্ম, আধ্যাত্মিক সাধনা, মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় প্রভাব এবং চট্টগ্রামের ইতিহাসে তাঁর অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন অধ্যক্ষ, আল্লামা মুফতি অছিউর রহমান আল কাদেরী। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) ছিলেন আত্মশুদ্ধি, মানবপ্রেম, সহিষ্ণুতা ও আধ্যাত্মিক জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ বর্তমান সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সমাজ বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, চট্টগ্রামের সুফি ঐতিহ্য ও বার আউলিয়ার ইতিহাসে হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা, দলিলপত্র সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শন তুলে ধরা সময়ের দাবি।
এ ধরনের সেমিনার আধ্যাত্মিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন যুগ্ম-পরিচালক আলহাজ একরাম হোসেন, ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের জিএম (মার্কেটিং) আলহাজ আবদুর রহিম, অ্যাডভোকেট মীর মোহাম্মদ ফেরদৌস খান সেলিম, আল্লামা আলহাজ নুরুন নবী, আলহাজ ফেরদৌসুল আলম খান আল কাদেরী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ড. সবুজ বড়ুয়া শুভ, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও ভাস্কর ডি. কে. দাশ মামুন, অধ্যাপক নাজিম উদ্দীন, অধ্যক্ষ জানে আলম নেজামী, লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়া,চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা লেখক ও কবি আব্দুল হক, সাংবাদিক এমডিএইচ রাজু, শাহজাদা সৈয়্যদ মামুনুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।
সেমিনারকে চট্টগ্রামের আধ্যাত্মিক ইতিহাস ও সুফি ঐতিহ্যচর্চার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
সেমিনার শেষে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেছেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়ার আরবী প্রভাষক আল্লামা নুরুন নবী আলকাদেরী ।





