দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র
মোঃ সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা চাতরী চৌমুহনী বাজার বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও গহিরা উপকূলীয় এলাকার সংযোগ সড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও নেই কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের ভেতরে ও আশপাশে ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। সেই পানির সঙ্গে মিশে থাকে বাজারের ময়লা-আবর্জনা, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধ। এতে ক্রেতা ও পথচারীদের চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে মাছ, মাংস ও সবজির বর্জ্য। এসব বর্জ্য সরানোর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় তা জমে পচে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজার এলাকায় কাদা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশ তৈরি করছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে বাজারের রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে ক্রেতাদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অনেকেই এই বাজার এড়িয়ে অন্যত্র কেনাকাটা করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে বাজারে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দাপট রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বাজারে ঢুকলেই নাক চেপে রাখতে হয়। ড্রেন না থাকায় পানি জমে থাকে, ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই অবস্থায় কেনাকাটা করা খুব কষ্টকর।
এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ সংকট ও অব্যবস্থাপনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি না আনলে চাতরী চৌমুহনী বাজার তার বাণিজ্যিক গুরুত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।





