জনআস্থা অর্জনই সরকারের বড় সাফল্য: নির্যাতিতদের ডাটাবেজ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি ড. আসিফ মিজানের

জনআস্থা অর্জনই সরকারের বড় সাফল্য: নির্যাতিতদের ডাটাবেজ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি ড. আসিফ মিজানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনোয়ারা প্রতিদিন

বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘সরকারের দুই মাস: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বক্তারা একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সোমালিয়ার দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আসিফ মিজান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে সরকারের কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছে।

বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার ব্যক্তিদের একটি নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার বা ডাটাবেজ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ড. মিজান বলেন, স্বল্প সময়ের শাসনকালেই তিনি অসামান্য অবদান রেখে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময়কাল জনগণ ও সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হলেও বিদায় যেন হয় সম্মানজনক এবং জনগণের ভালোবাসায় ভরপুর—এটাই প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল লতিফ মাসুম। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল রিসার্চ পার্টি সেলের চেয়ারম্যান ড. গাজী মিজানুর রহমান।

এছাড়া জনাব শরীফ হোসেন, প্রফেসর ড. সৈয়দ শামসুদ্দোহা, প্রফেসর ড. শাহাবুদ্দীন, প্রফেসর গোলাম রাব্বি, নায়েমের পরিচালক আতিকুল ইসলাম পাঠান, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাল্লাম, ফরিদ হোসেন ও ফাতেমা তাসনিমসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার, নির্যাতিতদের পুনর্বাসন এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা এই তিনটি বিষয় বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তারা।