অ্যামোনিয়া সংকটে থমকে গেল দেশের সার উৎপাদন চট্টগ্রামে ডিএপি কারখানাও বন্ধ, কৃষিতে বড় ধাক্কার শঙ্কা

এক মাসে তিন সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, গ্যাস সংকটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে কৃষিখাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানায় উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে অ্যামোনিয়ার তীব্র সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম থেমে যায়।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক মাসের ব্যবধানে তৃতীয় সার কারখানা উৎপাদন বন্ধের তালিকায় যুক্ত হলো। এর আগে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুত থাকা কাঁচামাল দিয়ে প্রায় দেড় মাস উৎপাদন চালু রাখা গেলেও বর্তমানে সেই মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় শুরু হলেই কারখানার কার্যক্রম চালু করা হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) পরিচালিত এই কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া এই কারখানার দুটি ইউনিটের প্রতিটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

মূলত পাশের সার কারখানাগুলো থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল ডিএপি কারখানাটি। কিন্তু গ্যাস সংকটে সেসব কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ডিএপি উৎপাদনে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের কৃষি খাতে যৌগিক সারের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সংকট সমাধান না হলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।