আনোয়ারায় ডুমুরিয়া-রুদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই: শিক্ষা অফিসের শোকজেও কাজ হচ্ছেনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: আনোয়ারা প্রতিদিন
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ডুমুরিয়া-রুদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিতা দে’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবক।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন কমে যায়। ২০১৭ সালের পর দীর্ঘ সময় কোনো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়নি; সর্বশেষ ২০২৫ সালে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে উদযাপন না করে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে দাপ্তরিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার সংগ্রহ করে বিল প্রস্তুতের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৪০ হাজার টাকার যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কক্ষপ্রতি দুটি টিউবলাইট স্থাপনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব হিন্দোল বাড়ী ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব আকতার বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে এক সপ্তাহের মধ্যে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময় পর পুনরায় পরিদর্শনে গিয়ে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেওয়া হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষিকা অর্থ সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে টাকা নেওয়া হলেও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন হয়নি। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি ও বার্ষিক পরীক্ষার পর পুরোনো বই সংগ্রহ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিদর্শনের সময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বিল উত্তোলন হলেও দীর্ঘদিন ধরে রাউটার অচল রয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে অফিসিয়াল কাজ পরিচালনার কথাও জানা গেছে। পরিচ্ছন্নতা খাতে মাসিক বরাদ্দ থাকলেও কোনো কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়নি; শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দিয়েই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ। মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম নেই। মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরমের যন্ত্রপাতিও আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে এই প্রধান শিক্ষিকর বিরুদ্ধে।
এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ মানসম্মত নয়, পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী ও খেলনার অভাব রয়েছে। করোনাকালীন সরকারি বরাদ্দে অন্যান্য বিদ্যালয়ে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করা হলেও এ বিদ্যালয়ে তা করা হয়নি বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা মিতা দে বলেন, এগুলো সব মিথ্যা, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এসব বিষয়ে আমার উদ্বর্তন কর্মকর্তারা কাজ করছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী বলেন, আমরা নির্বাচনের টাকা যথাযথ ব্যবহার না করা,মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম না থাকা, শিক্ষার্থীরা দেখে দেখে পড়তে না পারাসহ নানা বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। ওনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন আগামী পনের দিনের মধ্যে উল্লেখিত অভিযোগের ব্যাপারে সংসোধন করবেন।





