অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের জন্য চালককে চেতনানাশক খাইয়ে হত্যা, পুলিশের জালে ‘গালকাটা জামাল’সহ
নিজস্ব প্রতিবেদক: আনোয়ারা প্রতিদিন
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক মোহাম্মদ আইয়ুব আলীকে (৫৫) চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে হত্যার ঘটনায় আন্তঃজেলা অপরাধচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চেতনানাশক চক্র পরিচালনার অভিযোগে পরিচিত দুর্ধর্ষ আসামি “গালকাটা জামাল”ও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত আইয়ুব আলী দৈনিক ভাড়ায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালাতেন। গত ২০ এপ্রিল সকালে প্রতিদিনের মতো জীবিকার সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পর আনোয়ারা থানাধীন শোলকাটা রাস্তার মোড় এলাকায় তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অটোরিক্সার মালিক মোহাম্মদ আলী আহাম্মদ বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় হত্যা, চেতনানাশক প্রয়োগ ও অটোরিক্সা চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম এর নির্দেশনায়, আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহনুর রহমান সোহাগ এর তত্ত্বাবধানে এবং আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে রোববার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া ও পটিয়া এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদ জামাল ওরফে “গালকাটা জামাল” (৫২) এবং রাঙ্গুনিয়ার আব্দুল জব্বার (৩১)।
পুলিশের দাবি, জামাল দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে আন্তঃজেলা চেতনানাশক চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, মাদারীপুর, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন জেলায় হত্যা, চেতনানাশক প্রয়োগ ও যানবাহন ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি মূলত অটোরিক্সাচালক ও শ্রমজীবী মানুষকে টার্গেট করত। যাত্রী সেজে চালকদের সঙ্গে কৌশলে মিশে খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে চেতনানাশক প্রয়োগের পর অটোরিক্সা ছিনিয়ে নেওয়া হতো।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





