ক্যাবল চুরি ধরা পড়ার পরও শাস্তি নেই, ডিএপিএফসিএল প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

ক্যাবল চুরি ধরা পড়ার পরও শাস্তি নেই, ডিএপিএফসিএল প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনোয়ারা প্রতিদিন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)-এ প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩০ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটার সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তর থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ শেষ করে মালামাল বাইরে নেওয়ার সময় এসব ক্যাবল চুরি করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নিরাপত্তা বিভাগের তৎপরতায় বিষয়টি ধরা পড়ে এবং ক্যাবলগুলো উদ্ধার করা হয়।

কিন্তু ঘটনাটি হাতে-নাতে ধরা পড়ার পরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তাদের বিল পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনেকেই এ ঘটনায় ‘সরকারি মাল, ধরিয়ে মে ঢাল’—এমন প্রবাদ উল্লেখ করে প্রশাসনিক দায়হীনতার সমালোচনা করছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিকিউরিটি অফিসার আতাউল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সবার জানা।
সিকিউরিটি অফিসারের এ ধরনের অস্বীকার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার শামিল।

এদিকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমগীর জলিল বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা প্রভাবশালী মহলের চাপে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় অব্যাহত থাকবে।