নিজস্ব প্রতিবেদক, আনোয়ারা প্রতিদিন
………………………….
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কোদালা খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। এতে শত শত মাছ মরে খালে ভেসে উঠেছে এবং এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ভোররাতের দিকে একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট খালে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নিয়ে যায়। পরে দুপুরের দিকে জোয়ারের পানিতে খালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। অনেক মাছ পচে যাওয়ায় আশপাশ এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তখনই এলাকাবাসী বিষয়টি টের পান।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোদালা খালের স্লুইস গেট দিয়ে পানি উঠানামা করানোর দায়িত্বে স্থানীয় মোজাম্মেল ও জমির নামের দুই ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা স্লুইস গেটের নিচে জাল বসিয়ে মাছ ধরে এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও কয়েকবার একইভাবে খালে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, স্লুইস গেট দেখাশোনার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের আলাদা বিভাগ রয়েছে। সেচ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমার জানা মতে কোদালা খালের জন্য এ ধরনের কোনো দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করতে মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি দল ঘটনাস্থলে যাবে।
আনোয়ারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, “খালে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অনেক বড় বড় মাছ মরে ভেসে উঠেছে এবং কিছু মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ দিলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।





