আনোয়ারা ভূমি অফিসে ঘুষ, দালাল সিন্ডিকেট ও ‘দ্বৈত নীতি’র গুরুতর অভিযোগ

পুরোনো দলিলে সাধারণের আবেদন খারিজ, প্রভাবশালীদের নামজারি অনুমোদনের অভিযোগে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনোয়ারা প্রতিদিন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসে ভয়াবহ অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা-র বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত নীতি’ অনুসরণ করে সাধারণ মানুষের আবেদন খারিজ এবং ঘুষের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধাভোগীদের দ্রুত নামজারি অনুমোদনের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সেবাগ্রহীতারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি, ডিসিআর, মিস কেস ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ফি’র বাইরে প্রতিটি ধাপে আলাদা করে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। অফিসের ভেতরে সক্রিয় একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ফাইল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিশেষ করে আরএস দাগ বা ১৯৭৩-৭৪ সালের পুরোনো দলিল থাকলে অধিকাংশ নামজারি আবেদন নানা অজুহাতে খারিজ করে দেওয়া হয়। কখনও কাগজপত্রে ত্রুটি, কখনও রেকর্ড জটিলতা কিংবা মাঠ তদন্তের অজুহাত দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। অথচ একই ধরনের পুরোনো দলিলের ভিত্তিতেই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনকারীদের আবেদন দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ১৯৭৪ সালের পুরোনো দলিলের ভিত্তিতে একাধিক নামজারি আবেদন মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির পেছনে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অথচ সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের একই ধরনের আবেদন মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, কম টাকা দিলে মিউটেশন ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। কোনো কোনো আবেদনকারী কয়েক মাস ধরে অফিসে ঘুরেও সুরাহা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকার পরও দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ ছাড়া ফাইল সামনে এগোয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ ভূমি মালিকরা চরম হয়রানি ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূমি অফিসে একটি অঘোষিত ‘রেট নির্ধারণ’ পদ্ধতি চালু রয়েছে। নামজারি, ডিসিআর কিংবা মিস কেসের ধরন অনুযায়ী টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকা ছাড়া কোনো ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। অন্যদিকে প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিংবা বড় অঙ্কের ঘুষদাতাদের আবেদন অল্প সময়েই অনুমোদন পাচ্ছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আনোয়ারাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভূমি অফিসে এমন অনিয়ম ও বৈষম্যমূলক আচরণ সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার ও সেবাপ্রাপ্তির অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা-র মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।