আনোয়ারার দুধকুমড়ায় রাহাত উল্লাহ জামে মসজিদ ঘিরে উত্তেজনা, বিডিএস জরিপকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদন: (আনোয়ারা প্রতিদিন)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুধকুমড়া এলাকায় অবস্থিত রাহাত উল্লাহ জামে মসজিদকে ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বিডিএস জরিপের পর মসজিদের জায়গা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির অভিযোগ, এক ব্যক্তি নিজেকে মসজিদের মতয়াল্লী দাবি করে বর্তমান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে গঠিত একটি পরিচালনা কমিটি মসজিদের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ব্যয় এতদিন এই কমিটি এবং স্থানীয় মুসল্লিদের অনুদানের মাধ্যমে বহন করা হয়ে আসছিল।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আজিজ খান বলেন, “বহু বছর ধরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমরা মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন, মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের সব কাজ কমিটির মাধ্যমেই করা হয়েছে। এমনকি এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় এই কমিটির উদ্যোগেই বর্তমান দ্বিতল বিশিষ্ট নতুন মসজিদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিডিএস জরিপকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে একজন ব্যক্তি নিজেকে মতয়াল্লী দাবি করে কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যা তাদের মতে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশের অভিযোগ, মতয়াল্লী দাবি করা ওই ব্যক্তি মসজিদের জায়গার ওপর অবৈধভাবে একটি বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করছেন। বিডিএস জরিপের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে এবং তখন থেকেই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী মসজিদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মসজিদ একটি পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং এটিকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করা ঠিক নয়। তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন— সভাপতি মোঃ আজিজ খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল (সাবেক মেম্বার), মাদরাসা সভাপতি মোঃ হেলাল, অর্থ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, সহ-সভাপতি মোঃ আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহনুর এবং সদস্য মোঃ জমির, মোঃ জিয়া, মোঃ সজীব ও মোঃ সুফিয়ান।
এলাকাবাসীর মতে, মসজিদকে ঘিরে সৃষ্ট এই বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





