সাংবাদিকতার মুখোশে সিন্ডিকেট: আনোয়ারায় অপসাংবাদিকতার ভয়ংকর চিত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক (আনোয়ারা)
সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক। কিন্তু প্রশ্ন হলো যখন সেই বিবেকই বিক্রি হয়ে যায়, তখন সমাজের কী অবস্থা হয়? আনোয়ারায় বিগত প্রায় সতের বছর ধরে এমন এক শ্রেণির তথাকথিত সাংবাদিক সক্রিয় ছিল, যারা সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর বদলে ক্ষমতার পদলেহন, দুর্নীতি ও দখলবাজির অংশীদার হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলেমিশে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডারবাজি, এলজিডি অফিস সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তির অপব্যবহার, বাজার এলাকায় দোকান দখল, হাট-বাজার ইজারা বাণিজ্য এবং নানা অবৈধ সুবিধা বাণিজ্য চালানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর এসব অপকর্মের ভুক্তভোগী হলেও মুখ খুলতে পারেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একই গোষ্ঠীর কিছু তথাকথিত সাংবাদিক আবার নতুন করে ক্ষমতার কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একসময় যারা স্বৈরাচারী শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় সব ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিল, তারা এখন নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ ও সুবিধাভোগী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের তেলবাজ সাংবাদিকতা শুধু পেশার মর্যাদা ধ্বংস করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, গণতন্ত্র এবং জনগণের আস্থাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা মনে করেন, সাংবাদিকতার নামে দালালি ও পেশী শক্তির রাজনীতি বন্ধ না হলে প্রকৃত সাংবাদিকতা হারিয়ে যাবে এবং অপসাংবাদিকতার সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি, অনুসন্ধান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিকরা। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
আসিতেছে মুখোশের চিত্র……….!





