নিভে যাওয়া একটি প্রদীপ ও একটি অবুঝ শিশুর হাহাকার:

শফিউল আজম চৌধুরী, আনোয়ারা প্রতিদিন ;

অন্ধকার নেমে এসেছে কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ৩ নং ওয়ার্ডের সৈন্যরটেক( সৈন্যের বাড়ির) সেই পরিচিত ঘরটিতে। যে ঘরে কদিন আগেও দেড় বছরের একটি শিশুর খিলখিল হাসিতে মুখরিত হতো চারপাশ, সেখানে আজ কেবল নিস্তব্ধতা আর গুমরে কাঁদা দীর্ঘশ্বাস।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ দুর্ঘটনা মুহূর্তেই একটি সাজানো সংসারকে ধ্বংসের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে। নিজ বাসায় অসাবধানতাবশত পিছলে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তরুণ উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম পাভেল।

সেই আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, পাভেল আজ পৃথিবীর আলো-বাতাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নগরের ইমপেরিয়াল হসপিটালের হিমশীতল আইসিইউ-তে লাইফ সাপোর্টে নিথর পড়ে আছেন।​এক শিশু ও তার বাবার ফেরার প্রতীক্ষা-পাভেলের ঘরে আছে মাত্র ১৮ মাস বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশু।

সে এখনো ‘বাবা’ ডাকটি ঠিকমতো শিখতে পারেনি, অথচ তার বাবার নিশ্বাস এখন চলছে যান্ত্রিক বাতাসের ওপর ভর করে। শিশুটি জানে না তার বাবা কেন বাসায় ফেরে না, কেন তাকে কোলে তুলে নেয় না। সে কেবল অপলক দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে—যদি বাবা ফিরে আসে! পাভেলের স্ত্রী আজ পাথর হয়ে গেছেন, বৃদ্ধ বাবা-মা জায়নামাজে বসে শুধু চোখের জল ফেলছেন। তাদের সম্বল বলতে এখন কেবল আল্লাহর রহমত আর আপনাদের সামান্য করুণা।

​চিকিৎসার ব্যয় যখন পাহাড়সম বাধা​:-শহিদুল ইসলাম পাভেল এলাকায় ছোটখাটো একটি ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। বড় কোনো সঞ্চয় তার ছিল না। বর্তমানে নগরীর ইমপেরিয়াল হাসপাতালে তার চিকিৎসার পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

গত কয়েক দিনে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ পুরোপুরি নিঃস্ব। জমি-জমা, জমানো টাকা—সবই শেষ। এখন প্রতিদিনের ওষুধের টাকা জোগাড় করাও তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। টাকার অভাবে কি তবে একটি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাবে? একটি শিশু কি তার বাবার ছায়া পাওয়ার আগেই এতিম হয়ে যাবে?

​আমাদের কি কিছুই করার নেই?মানবতা কি কেবল বইয়ের পাতায়? আজ পাভেলের এই চরম বিপদে আমাদের সবার একটুখানি সহমর্মিতা পারে একটি প্রাণ রক্ষা করতে। আপনার দেওয়া সামান্য অনুদান হয়তো পাভেলের পরিবারের কাছে পাহাড়সম প্রাপ্তি।

আসুন, আমরা যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াই। আমাদের সামান্য ত্যাগের বিনিময়ে যদি পাভেল তার দেড় বছরের সন্তানের কাছে ফিরে আসতে পারে, তবে এর চেয়ে বড় সওয়াব আর কী হতে পারে?

আপনার সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম:পাভেলের বড় ভাইদের সাথে সরাসরি কথা বলতে বা আর্থিক সহায়তা পাঠাতে নিচের নাম্বারগুলো ব্যবহার করুন:

বিকাশ (পার্সোনাল): 01956 75 63 23 (ফরিদুল আলম – বড় ভাই)বিকাশ (পার্সোনাল): 01613 53 80 02 (মুহাং হারুন)।

আপনার সামান্য সহযোগিতায় যদি পাভেল সুস্থ হয়ে ফিরে আসে, তবে একটি শিশু ফিরে পাবে তার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আশ্রয়। দয়া করে এই মানবিক আবেদনে সাড়া দিন এবং পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দিন।