চাতরী চৌমুহনীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আড়ালে ‘মাসিক কোটা’ অভিযোগ: যানজটে বিপর্যস্ত জনজীবন

চাতরী চৌমুহনীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আড়ালে ‘মাসিক কোটা’ অভিযোগ: যানজটে বিপর্যস্ত জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনোয়ারা প্রতিদিন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল। আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও চন্দনাইশ রুটের হাজারো সিএনজি, অটোরিকশা, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন প্রতিদিন এই মোড় দিয়ে চলাচল করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকাটি তীব্র যানজটের স্থায়ী কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই যানজটের পেছনে অব্যবস্থাপনা ছাড়াও আরেকটি অভিযোগ উঠে এসেছে ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরিবহন চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

স্থানীয় পরিবহন চালক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী এলাকায় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিএনজি, অটোরিকশা ও পিকআপচালকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চালকদের দাবি, কোনো ধরনের রসিদ বা টোকেন ছাড়াই চালকদের নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অর্থ নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক বলেন, মাসিক অর্থ না দিলে গাড়ি আটক বা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। বিশেষ করে নিবন্ধনবিহীন বা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ যানবাহনের চালকদের ওপর চাপ বেশি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যারা নিয়মিত অর্থ দেন তারা বাজার এলাকায় সড়কের মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন। এতে চাতরী চৌমুহনী এলাকায় প্রায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। যানজটে আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী যান ও সাধারণ যাত্রীবাহী পরিবহন।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট থাকে। অফিস, স্কুল, হাসপাতাল সবখানে যেতে মানুষ দেরিতে পৌঁছায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ট্রাফিক ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করে কল কেটে দেন। ফলে তার পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা, সাময়িক বরখাস্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চাতরী চৌমুহনী এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত মনিটরিং ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা জরুরি।