আনোয়ারায় মা ও শিশুকন্যার ঝুলন্ত মরদেহ: আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা? প্রশ্নের মুখে পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক: (আনোয়ারা প্রতিদিন)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সুমি আক্তার (২৮) ও তার দেড় বছর বয়সী মেয়ে ওয়াসিহা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা?
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকার দেয়াং বাজার সরকারি আশ্রয় প্রকল্পের একটি গুচ্ছগ্রামের ঘর থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয়দের মাঝে নানা গুঞ্জন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বিকেলে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তবে ঘরের পরিস্থিতি ও ঘটনাস্থলের কিছু অসংগতি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহতের স্বামী মোহাম্মদ মিজান (২৫) প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও, সুমির পরিবার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। নিহতের বড় বোন বেবি আক্তার অভিযোগ করেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার বোনকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস জানান, স্বামীর কাছ থেকেই তিনি প্রথমে আত্মহত্যার খবর পান। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে তিনিও বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং দ্রুত থানায় খবর দেন।
এদিকে, প্রতিবেশীদের কেউ কেউ জানান, দাম্পত্য কলহের বিষয়টি আগে থেকেই এলাকায় আলোচনা ছিল। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মা ও শিশুর একসঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাই ঘটনাটিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এখন প্রশ্ন একটাই—এটি কি চরম হতাশা থেকে নেওয়া কোনো মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অন্ধকার সত্য? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্তর মিলছে না, তবে সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় পুরো এলাকা।





