আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় বদলে সরওয়ার জামাল নিজামের অনুসারী দাবি
আনোয়ারায় নারী ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | আনোয়ারা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মিনু আক্তারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে ১ নম্বর মহতর পাড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান আজাদের।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে প্রকল্প বরাদ্দ সংক্রান্ত এক আলোচনা সভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মিনু আক্তার আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা চলছিল। সভায় নিজের এলাকার একটি জরুরি সড়ক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ চান সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মিনু আক্তার। এ নিয়ে ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান আজাদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আবদুল মান্নান ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরেই তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার পরও আবদুল মান্নান আজাদের দাপট কমেনি। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট কেন্দ্র দখল ও ফলাফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিলেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি হঠাৎ করেই নিজের পরিচয় বদলে বিএনপি নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং নিজেকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীর্ষের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের অনুসারী দাবি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, তার কারণে প্রকৃত আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।
এছাড়া আবদুল মান্নান আজাদের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি সম্প্রতি মহতর ওয়ার্ডের একটি সরকারি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কংক্রিট, সিমেন্ট ও বালু আত্মসাৎ করে নিজের ঘরের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর মহতর পাড়া গ্রামের সচেতন নাগরিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে তাকে দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মিনু আক্তার বলেন,
আজ পরিষদে বরাদ্দ নিয়ে মিটিং ছিল। ইউএনও ম্যাডাম চারটি বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন। আমি আমার এলাকার একটি জরুরি সড়কের জন্য বরাদ্দ চাইলে সবাই সম্মত হয়। তখন মান্নান মেম্বার বলেন, আমাকে বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। আমি বললে তিনি পরিষদের ভেতরেই আমাকে মারধর করে আহত করেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান আজাদ মারধরের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন,
সামান্য বিষয় নিয়ে তিনি আমার দিকে তেড়ে এসেছিলেন। তখন আমি একটি চড় মারি। এতে তার নাক ফেটে গেছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন,
বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ জুনায়েদ চৌধুরী বলেন,
লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিয়াজ উদ্দিন জিকু অভিযোগ করে বলেন,
আবদুল মান্নান ফ্যাসিবাদের দোসর। আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি খোলস পাল্টে বিএনপি সেজে অপকর্ম করছে। তিনি বিএনপির কেউ নন।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।






